ব্রেকিং নিউজ
জামালপুর এনডিইএ’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে সোহানুর রহমান ও নয়ন মিয়া সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় রংপুরে এনডিইএ’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা,নেতৃত্বে মোঃ শাহাদাত হোসেন সৈকত ও মো: শাহাদাৎ হোসেন বাবা সাংবাদিক, সন্তান হৃদরোগে আক্রান্ত—রিহানকে বাঁচাতে মানবিক আবেদন বাজুয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা সাপাহারে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা
×

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১/১/২০২৬, ১১:২২:৩৫ AM

কালো সোনা হতে পারে বুড়িগঙ্গা সাকার মাছ! এই মাছ কতটা লাভের সম্ভাবনাআছে

বুড়িগঙ্গা নদীতে সম্প্রতি দেখা দিয়েছে সাকার মাছের ব্যাপক উপস্থিতি, যা নদীর অন্যান্য মাছের প্রজনন ও খাদ্য শৃঙ্খলকে বিপর্যস্ত করছে। স্থানীয় মাঝিরা একে ‘রোহিঙ্গা মাছ’ বা ‘রাক্ষুস মাছ’ হিসেবে ডাকে। অনেকে এটিকে ‘ডেভিল ফিস’ বা ‘শয়তান মাছ’ বলেও অভিহিত করে, কারণ এটি নদীর অন্যান্য মাছের ডিম ও ছোট মাছ এবং ময়লা-আবর্জনা খেয়ে ফেলে।

 বুড়িগঙ্গা নদীতে সম্প্রতি দেখা দিয়েছে সাকার মাছের ব্যাপক উপস্থিতি, যা নদীর অন্যান্য মাছের প্রজনন ও খাদ্য শৃঙ্খলকে বিপর্যস্ত করছে। স্থানীয় মাঝিরা একে ‘রোহিঙ্গা মাছ’ বা ‘রাক্ষুস মাছ’ হিসেবে ডাকে। অনেকে এটিকে ‘ডেভিল ফিস’ বা ‘শয়তান মাছ’ বলেও অভিহিত করে, কারণ এটি নদীর অন্যান্য মাছের ডিম ও ছোট মাছ এবং ময়লা-আবর্জনা খেয়ে ফেলে। ১৯৮০ সালে অ্যাকুরিয়ামের জন্য আনা এই মাছ পরে নদী ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

সাকার মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো হিপোস টমাস গ্লোকাস টমাস। অবাক করার বিষয় হলো, এটি পানি ছাড়াও ২৪ ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে। গবেষকদের মতে, ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দেখা মিলে এই মাছের, এরপর ব্রাজিল, পানামা ও মেক্সিকোতে ছড়িয়ে পড়ে। মেক্সিকো থেকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হয়, সেখানে শুটকি বা মাছের নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে বার্গার, ফিশ চিপস এবং অন্যান্য খাবার তৈরি করা হয়। এতে সাকার মাছ স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়ও হয়েছে।

বাংলাদেশেও কিছু পরিমাণে সাকার মাছ খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছে। ফুড ভ্লগাররা সামাজিক মাধ্যমে রান্নার রেসিপি তুলে ধরেছেন, যেমন ‘এম ইন বিডি’, ‘মুসাফির’, ‘শিউলি কিচেন’ ইত্যাদি। তবে দেশীয়ভাবে সাকার মাছকে এখনও ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি। কারণ এতে ভারী ধাতু ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। পাশাপাশি দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর জন্যও এটি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সাকার মাছের পুষ্টিগুণ নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, এ মাছের দেহে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রোটিন, ৩.৭৮ শতাংশ চর্বি এবং প্রচুর ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান রয়েছে। শুটকিতে ৬৫-৭০ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া যায়। তাই পুষ্টির দিক থেকে এটি ব্যবহারযোগ্য।

স্থানীয়দের মতে, বুড়িগঙ্গার মাছ ধরার যন্ত্রণা এখন সাকার মাছের কারণে বাড়ছে। ভুবন মাঝি জানান, আগে শিং, কই, টাকি বা ইচা মাছ ধরতেন, এখন জাল ফেললেই মূলত সাকার মাছই উঠে আসে। কেউ কেউ এই মাছ শখ করে খাচ্ছেন। কেউ কেউ কুকুর-বিড়ালের খাবার হিসেবে শুটকি হিসেবে ব্যবহার করছেন। বাজারে এ মাছ বিক্রি করা শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও আমিষের চাহিদা মেটাতে এ মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।স্থানীয়রা আশা করছেন, এই বিপুল পরিমাণ সাকার মাছকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি খাদ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে। তবে নদী ও জলাশয়ে বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে উৎপাদন ও প্রজননের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।